রমজান অন্যান্য মাস অপেক্ষা অধিক মর্যাদাপূর্ণ

রহমত, মাগফেরাত আর নাজাতের বার্তা নিয়ে আসা রমজান নিঃসন্দেহে অন্যান্য মাস অপেক্ষা অধিক মর্যাদাপূর্ণ। এ মাসের অর্জিত তাকওয়া অন্য সকল মাসে প্রয়োগের মাধ্যমে আমাদের জীবন সুন্দর ও আলোকিত হয়ে ওঠে। তাই আমাদের জীবনে রমযানের গুরুত্ব অনেক বেশি।

রমজান অন্যান্য মাস অপেক্ষা অধিক মর্যাদাপূর্ণ

রমজান সাধ্যমত ইবাদাত করার জন্য উৎসাহিত করে


ফারসি শব্দ রোজার আরবি অর্থ হচ্ছে সওম, বহুবচনে সিয়াম। এর বাংলা অর্থ বিরত থাকা। আর সিয়াম সাধনার অর্থ, সুবহেসাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল ধরণের পানাহার, ইন্দ্রিয়তৃপ্তি এবং খারাপ কাজ ধেকে নিজেকে বিরত ও সংযত রাখা। এ মাস মানুষের সকল প্রকার গর্হিত ও অনৈতিক কার্যকলাপ থেকে বিরত রাখে এবং রমজান সাধ্যমত ইবাদাত করার জন্য উৎসাহিত করে।

প্রকৃতঅর্থে রমজান হলো পূর্বের সকল গুনাহর জন্য ক্ষমা চেয়ে সাচ্চা মুসলমান হয়ে জীবনযাপনের প্রতিজ্ঞা করার মাস। এ মাসের সময়গুলো খুব বেশি ইবাদতে অতিবাহিত করা উচিত। ফরজ নামাজ ও রোজা, তারাবিহ পড়া, সেহরির আগে তাহাজ্জদ পড়া, যথাসম্ভব জিকির ও কুরআন তেলাওয়াত, দান সাদকা ও মানুষের হক আদায় করে সময় কাটানো।

পূর্ববর্তী ধর্মমতে রোজা


মানুষের জন্য রমজানের রোজাই প্রথম রোজা নয়। মানুষ সৃষ্টির পর থেকেই আল্লাহ নিজের বান্দার জন্য রোজা ফরজ করেছেন। তিনি বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হল, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতের উপর ফরজ করা হয়েছিল। যাতে তোমরা পরহেযগার হতে পার।’- আল কুরআন, ২/১৮৩।

কুরআনের এ আয়াত থেকে বুঝা যায়, পূর্ববর্তী সকল উম্মতের জন্য রোজা ফরজ ছিল। অবশ্য ইসলাম, খৃস্টান ও ইহুদী ধর্মের পূর্বের ধর্মাবলম্বী মানুষরা কিভাবে কোন পদ্ধতিতে রোজা পালন করত তা নির্দিষ্টরূপে জানা যায় না। তবে ইহুদী ও খৃস্টানরা নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কিছু জিনিস থেকে বিরত থেকে রোজা পালন করত। তাওরাত ও ইঞ্জীল থেকে জানা যায় পূর্ববর্তী বান্দাদের উপরও রোজা ফরজ করা হয়েছিল।

বুখারী ও মুসলিম হাদীস থেকে জানা যায় যে, মহানবী সা. যখন মক্কা থেকে হিজরত করে মদীনায় আসলেন তখন দেখলেন ইহুদীরা আশুরার দিনে রোজা পালন করছে। মহানবী সা. কারন জিজ্ঞাসা করলে ইহদীরা বলল, এ এক মহান দিন। এ দিনে আল্লাহ মুসা ও তাঁর কওমকে পরিত্রাণ দিয়েছিলেন এবং ফিরআউন ও তার কওমকে পানিতে ডুবিয়ে ধ্বংস করেছিলেন।

তাই মুসা আ. কৃতজ্ঞতা স্বরূপ এই দিনে রোজা পালন করেছিলেন। আর সে জন্যই আমরাও এ দিনে রোজা পালন করি। এ কথা শুনে মহানবী সা. বললেন, মুসার স্মৃতি পালন করার ব্যাপারে তোমাদের চাইতে আমরা অধিক হকদার। তাই মহানবী সা. ঐ দিনে রোজা পালন করলেন এবং সকলকে রোজা রাখার আদেশ দিলেন।

ইহুদী, খৃস্টান ও মুসলিমদের রোজার মধ্যে একটি পার্থক্য এই যে, তারা সেহরী খায় না কিন্তু মুসলিমরা খায়। অনুরূপ তারা ইফতারে দেরী করে আর মুসলিমরা সূর্য ডোবার সাথে সাথে ইফতার করে। এই সকল কারনে মুসলিমরা রোজার ভার অনেক হালকা মনে করে। পূর্ববর্তী আম্বিয়া ও তাদের অনুগামীদের উপরও রোজা ফরজ ছিল শুনে এই পথ অবলম্বন করে আনন্দবোধ করে।

রোজা ও তার পর্যায়ক্রম


মহান আল্লাহর একটি হিকমত ও অনুগ্রহ এই যে. তিনি বান্দার উপর যে আদেশ-নিষেধ আরোপ করেছেন তার মধ্যে বহু বিষয় পর্যায়ক্রমে ধীরে ধীরে ফরজ বা হারাম করেছেন। অনুরূপ রোজা উম্মতের উপর পর্যায়ক্রমে কিছু কিছু করে ফরজ করেছেন। যেমন-

প্রথম পর্যায় : মহানবী সা. প্রত্যেক মাসে ৩টি করে রোজা পালন করতেন। সাহাবীরাও অনুরূপ করতেন যাতে করে রোজার অভ্যাস তাদের জন্য সহজ হয়।

দ্বিতীয় পর্যায় : জাহেলী যুগে আশুরার রোজা রাখা হত। মহানবী সা. মদীনায় এসে মুসা আ. এর অনুকরণে তাঁর স্মৃতি পালন করে আশুরার দিনে খুব গুরুত্বের সাথে রোজা রাখলেন এবং সাহাবীদেরকেও আদেশ করলেন। তখন এ রোজা ফরজ ছিল।

তৃতীয় পর্যায় :  তখনো রোজা পূর্ণ আকারে ফরজ ছিল না। যার ইচ্ছা রোজা রাখত এবং যার ইচ্ছা সে না রেখে মিসকীনকে খাদ্য দান করত। তবে রোজা রাখাই আল্লাহর নিকট অধিক পছন্দনীয় বলে কুরআনের একটি আয়াত (২/১৮৪) নাযিল হয়।

চতুর্থ পর্যায় : এরপর সন ২ হিজরীর শা’বান মাসের ২য় তারিখ সোমবার প্রত্যেক সামর্থবান ভারপ্রাপ্ত মুসলিমের পক্ষে পূর্ণ রমজান মাসের রোজা ফরজ করা হল। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘অতপর তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ মাস পাবে সে যেন এ মাসে রোজা রাখে’। - কুরআন- ২/১৮৫। সুতরাং সামর্থবানদের খাদ্যদানের বিধান রহিত হয়ে গেল।

শুরুর দিকে, রাত্রে একবার ঘুমিয়ে পড়লে পানাহার ও স্ত্রী-সহবাস হারাম হয়ে যেত। এতে মুসলিমরা বড় কষ্টবোধ করতে লাগলেন এবং দুর্বল হয়ে পড়তেন। পরবর্তীতে আল্লাহ সে ভার হাল্কা করে দিলেন। পরিশেষে ফজর উদয়কাল থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখার সময় নির্ধারণ করা হল। এ মাসকে আল্লাহ শ্রেষ্ঠ মাস হিসাবে নির্ধারণ করেছেন।

রমজান মাসের মর্যাদা


রমজান মাসের আগমনে মুসলিমগণ আনন্দ প্রকাশ করে থাকে। আল্লাহ বলেন- ‘হে নবী বলো, এটা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়া। সুতরাং এতে তারা আনন্দিত হোক। তারা যা সঞ্চয় করে এটা তার চেয়ে উত্তম’। - ইউনুস-৫৮। পার্থিব কোন সম্পদের সাথে এ অনুগ্রহের তুলনা চলে না। রামজানের আগমনে রাসুল সা. অতিশয় আনন্দিত হতেন।

এ মাসের কিছু ফজিলত বর্ণনা করে রাসুল সা. বলেন- এ মাসে আকাশের দ্বার সমূহ খুলে দেয়া হয়। বন্ধ করে দেয়া হয় জাহান্নামের দরজাগুলো। অভিশপ্ত শয়তানকে বন্দি করা হয়। এ মাসে এমন একটি রাত আছে যা হাজার রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো সে মূলত সকল কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হল।

রমজান মাস সৌভাগ্য, সংযম, আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য এবং মানুষের সাথে সহানুভূতির মাস। এ মাসের মর্যাদা এত বেশি যে, প্রায় সকল আসমানী কিতাব এ মাসে অবতীর্ণ হয়েছিল। হযরত ইব্রাহিম আ. এর ছহিফা, দাউদ আ. এর যবুর, মুসা আ. এর তৌরাত, ঈসা আ. এর ইঞ্জিল ও সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সা. এর উপর অবতীর্ণ হয় আল কোরআন।

আল্লাহ নিজেই বলেন, রোজা আমার জন্য এবং আমি নিজে এর প্রতিদান দেব। প্রত্যেক নর-নারীর জন্য রোজা পালন বাধ্যতামূলক। একমাত্র বদ্ধ পাগল, ছোট ছেলেমেয়ে অসুস্থ এবং আরো বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে রোজা ফরজ নয়। যারা রোজা অবহেলা করে তাদের জন্য কঠিন শাস্তি রয়েছে। রোজা পালনের দ্বারা মানুষের দৈহিক আত্মিক উৎকর্ষ সাধন হয়ে থাকে।

যে ব্যক্তি কোন কারনে রোজা রাখেনি তার জন্য তারাবীর নামাজ পড়া সুন্নত। নবী করিম সা. বলেন- আল্লাহ তোমাদের জন্য রমজান মাসে রোজা ফরজ করেছেন আর আমি সুন্নত হিসাবে তারাবীর নামাজকে বিধিবদ্ধ করলাম। আল্লাহ সেহরী ও ইফতারকে পুণ্যময় ও বরকতময় করেছেন। মাহে রমজানকে আল্লাহ মহিমান্বিত ও নফল ইবাদতকে ফরজের সমান করেছেন।

রমজান মাসের আরো একটি বিশেষ ইবাদত হল এতেকাফ। রমজানের শেষ দশদিনের এ ইবাদত বিশেষ পূণ্যের কাজ। এ মাসে ফিতরা প্রদান করাও একটি বিশেষ অঙ্গ। বস্তুত এ মাস মানুষের সঙ্গে মানুষের সহানুভূতি, সংযম ও সৌভাগ্যের মাস। দীর্ঘ সময়ে ধরে উপবাসের মাধ্যমে বিত্তশালীরা ক্ষুধার যন্ত্রণা উপলব্ধি করতে পারে এবং তাদের মধ্যে মানবতাবোধ জাগ্রত হয়।

রমজান মাসের ফজিলত


রমজান মাসে রাসুল সা. ও তাঁর সাহাবারা অধিক পরিমানে শক্তি, সজিবতা এবং ধৈর্য ধারণ করার উদ্যম অনুভব করতেন। রমজান মাসকে সৎকাজ, ধৈর্য ও দানের মাস বলা হয়। রাসুল সা. এ মাসে মক্কা বিজয়ের জন্য যুদ্ধ করেছেন। এ মাসেই বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়। মূর্তি ও পৌত্তলিকতার পতাকা অবনমিত হয়। এ মাসে অনেক জিহাদ এবং কুরবানিও সংঘটিত হয়।

রমজান ঢাল স্বরূপ : রোজা প্রবৃত্তির তাড়না থেকে বাঁচার জন্য ঢাল এর মাধ্যমে বান্দা আগুন থেকে মুক্তি পায়। মহানবী সা. বলেন- হে যুবকেরা, যে বিবাহের সামর্থ রাখে না সে যেন রোজা পালন করে। কারন এটি তার জন্য সুরক্ষা।

রোজা জান্নাতের পথ : জান্নাতের একটি দরজা আছে যার নাম রাইয়ান। একমাত্র রোজাদাররা সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। তারা প্রবেশ করার পর দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। আর কেহ সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না। - বুখারী, মুসলিম।

রোজা সুপারিশ করবে : রোজা এবং কোরআন বান্দার জন্য পরকাল দিবসে সুপারিশ করবে। রোজা এবং কোরআন উভয়েই আল্লার নিকট সুপারিশ করলে আল্লাহ বলবেন, তাদের সুপারিশ গ্রহন করা হল।

রোজা গুনাহ ক্ষমা এবং কাফফারা হিসাবে গৃহিত হয় : যে রমজানে ঈমান এবং এহেতেসাবের সাথে সিয়াম বা রোজা পালন করবে আল্লাহ তার পূর্বের গোনাহ মাফ করে দিবেন। - বুখারী, মুসলিম। কেননা ভাল কাজ অন্যায়কে মুছে দেয়।

রোজা ইহকাল ও পরকালে সৌভাগ্যের কারন : রাসুল সা. বলেন- রোজা পালনকারীর দুটি আনন্দ, প্রথমটি হচ্ছে, যখন সে ইফতার করে আর অন্যটি যখন সে তার রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে। রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশক আম্বারের চেয়ে অধিক প্রিয়।

রমজানকে কাজে লাগানো : এ মাসকে দাওয়াত দানকারীগণ তাদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গী পাল্টিয়ে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করার সুযোগ হিসাবে গ্রহ করতে পারে। প্রত্যেকে অপর ভাইকে সাহায্য করার মাস হিসাবে গ্রহন করতে পারে। ক্ষুদার্তকে খাওয়ানো, বস্ত্রহীনদের বস্ত্র না দিয়ে মনে করতে হবে তাদের ঈমান বিপদজনক অবস্থায় আছে।

রোজা পালনকারীর জন্য নসিহত : মনকে প্রশস্থ করা, জিহ্বাকে খাটো করা, অন্যায় ও ঝগড়া থেকে দুরে থাকা, কষ্টে ধৈর্য ধারন করা। কেহ যদি ঝগড়া শুরু করে তবে তার মত ঝগড়া না করা। আমি রোজাদার বলে তা পরিহার করা।

এ মাসের বরকত : এ মাসের ভাল কাজের প্রতিদান অনেক বেড়ে যায়। রাসুল সা. বলেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতেসাবের সাথে রমজানের রাত্রে দাড়িয়ে নামাজ আদায় করবে আল্লাহ তাআলা তার পূর্বের গোনাহ মাফ করে দিবেন। - বুখারী, মুসলিম।

দান সাদকা : রাসুল সা. সমস্ত মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন। রমজানে তিনি যখন জিবরীলের সাথে সাক্ষাৎ করতেন আরো বেশি দানশীল হয়ে যেতেন। পূর্বসূরীরা দানের পাশাপাশি অধিক পরিমাণে কোরআন তেলাওয়াত করতেন। এ মাসে ফিতরা এবং যাকাত প্রদানের ফলে সমাজের গরীব ও অসহায়দের অনেক উপকার হয়ে থাকে।

এতেকাফ : রমজান মাসের শেষ দশদিন মসজিদের ভিতরে অবস্থান করে ইবাদত করার নাম এতেকাফ। রাসুল সা. মৃত্যু পর্যন্ত রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করেছেন। এ মাসে ওমরা করারও অনেক ফজিলত।

সেহরী খাওয়া উত্তম : সেহরী হচ্ছে বরকতময় খাবার। কেননা আল্লাহ এবং ফেরেশতাগণ সেহরীতে অংশগ্রহণকারীদের জন্য দোয়া করতে থাকেন।

কোরআন নাযিলের মাস : রমজান মাসে সপ্তম আকাশের লওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আকাশে বায়তুল ইজ্জতে এই কোরআন একবারে নাযিল হয়। এরপর আবার রমজান মাসে অল্প অল্প করে রাসূল সা. এর উপর নাযিল হতে শুরু করে।

লাইলাতুল কদর : আল্লাহ বলেন, লাইলাতুল কদর এক হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। সে রাতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাগণ ও রুহ অবতীর্ণ হয় তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। এটা নিরাপত্তা যা, ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। - কদর-৩-৫।

দোয়া কবুলের মাস : এ মাসে প্রত্যেক মুসলিমের দোয়া কবুল করা হয়। রমজানের প্রতি রাতে ও দিনে বহু মানুষকে মুক্তি দিয়ে থাকেন এবং দোয়া কবুল করা হয়। রাসূল সা. বলেন, ঐ ব্যক্তির নাক ধুলায় ধূসরিত হোক যার কাছে রমজান মাস এসে চলে গেল অথচ তার পাপগুলো ক্ষমা করা হয়নি। - তিরমিজি।

জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাস : এ মাসে জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, আর বন্ধ করা হয় না। প্রতি রাতে আল্লাহ জাহান্নাম থেকে বহু মানুষকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। - তিরমিজি।

ধৈর্য ও সবরের মাস : এ মাসে যেভাবে ধৈর্যের অনুশীলন করা হয় তা অন্য কোন মাসে করা হয় না। রোজা পালনে যে ধৈর্যের প্রমান দেয়া হয় তা অন্য কোন ইবাদতে পাওয়া যায়না। আল্লাহ বলেন- ধৈর্যশীলদের তো বিনা হিসাবে পুরস্কার দেয়া হবে। - সুরা যুমার-১০।

তিন ব্যক্তির দোয়া আল্লাহ ফেরত দেন না : ন্যায়পরায়ন শাসক, রোজাদার যখন সে ইফতার করে ও অত্যাচারিতের দোয়া। এ মাস যেন আমাদের সকলের জন্য ক্ষমার মাস হয়। আমাদের ভাল কাজগুলো আমাদের জন্য নাজাতের উসিলা হিসাবে কবুল করুন।

রমজানের আরও ফজিলত


রোজা মানবদেহে তারুণ্য ও রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। জাপানের এক নোবেল বিজয়ী চিকিৎসকের গবেষণা- মানুষের সারা শরীর ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন কোষ দিয়ে গঠিত। এই কোষগুলি কারখানার মতো সারাদিন কাজ করে কিছু আবর্জনা তৈরি করছে। রোজায় অটোফিজি নামক প্রকৃয়ার মাধ্যমে ক্ষতিকর বিষয়গুলো রিসাইকেল করে কোষকে সতেজ করে তোলে।

আজ থেকে প্রায় ২৫০ বছর পূর্বে ১৭৬৯ সালে মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডা. পিটার মানুষকে রোজা রাখার উপদেশ দেন। তার যুক্তি ছিল, রোজায় পরিপাকতন্ত্র বিশ্রাম পায়। ফলে তা ঠিকমত কাজ চালাতে পারে। রোজার মাধ্যমে কালাজ্বর ও পুরাতন রোগ ঔষধ ছাড়াই ভালো হয়ে যায়।

এছাড়া রোজা ডায়াবেটিকের ঝুঁকি কমায়। রোজা রাখলে আয়ু বাড়ে এবং বার্ধক্য দুরে রাখে। রোজায় মস্তিস্কের নতুন কোষের জন্ম হয়ে কর্মদক্ষতা বেড়ে যায়। রক্তচাপ কমানোর এক আশ্চর্য পদ্ধতি হল রোজা। মেটাবলিক হার স্বাভাবিক থাকে। ধমনিতে চর্বি জমে না ফলে হার্ট এটাকের ঝুঁকি কমে। রোজায় অতিরিক্ত চর্বি শরীরের কাজে ব্যবহৃত হয় ফলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়।

মানুষের যে হরমোন বেশি প্রয়োজন তা রোজার ফলে বৃদ্ধি পায়। চিকিৎসকদের মতে দেহের প্রতিষেধক ও প্রতিরোধক হিসাবে কাজ করে। ধুমপানের অভ্যাস অনেকটাই কমে যায়। রোজায় মানষিক শক্তি, স্মরণ শক্তি, দৃষ্টি শক্তি, আধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। জিহ্বা ও লালাগ্রন্থির বিশ্রামের ফলে খাদ্যদ্রব্যের স্বাদ বৃদ্ধি পায়। রোজার ফলে শরীরের সব অঙ্গ বিশ্রাম পায়।

প্রায় ১৫ ঘন্টা পেট খালি থাকার ফলে লিভার, কিডনি ও মূত্রথলির বেশ উপকারিতা হয়। অগ্নাশয়ের কারণে বহুমূত্র রোগ উপশম হয়। রোজার ফলে পাকস্থলি ক্রমশ ছোট হয়ে আসে। রোজায় আত্মিক পরিতৃপ্তির সাথে সংযম, কুপ্রবৃত্তি দমন, লোভ-লালসা, হিংসা, প্রতিহিংসা ইত্যাদি ত্যাগ করার যে আলোকোজ্জল অনুভূতির চর্চা হয় তা অন্য কোনভাবে সম্ভব নয়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url